‘উত্তরবঙ্গ আঞ্চলিক সমাবর্তন ২০২৬’–এ মিলনমেলা দীনবন্ধু মঞ্চে

শিলিগুড়ি, ১২ মে, ২০২৬ – সর্বভারতীয় সঙ্গীত ও সংস্কৃতি পরিষদ আয়োজিত ‘উত্তরবঙ্গ আঞ্চলিক সমাবর্তন ২০২৬’-এর অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে অনন্য এক সাংস্কৃতিক আয়োজন – “শতকণ্ঠে সমবেত সঙ্গীত”। অসংখ্য কণ্ঠের সুরেলা মিলনে গড়ে উঠবে এক অতুলনীয় সুরের আবহ, যা এই সমাবর্তনকে স্মরণীয় করে তুলবে।  ১৯৭৬ সাল থেকে ঐতিহ্য বহন করে আসা এই সংগঠনটি আয়োজন করছে “উত্তরবঙ্গ আঞ্চলিক সমাবর্তন ২০২৬”

একসঙ্গে অনেক কণ্ঠ, একসুরে বন্দনা

এই আয়োজনে শতাধিক শিল্পী একসঙ্গে গেয়ে উপস্থিত করবেন সমবেত সংগীতের এক বিরল দৃশ্য। আয়োজকদের মতে, “অসংখ্য কণ্ঠের সুরেলা মিলনে গড়ে উঠবে এক অনন্য সাংস্কৃতিক আবহ, যা এই আয়োজনকে করে তুলবে আরও স্মরণীয়।”

উত্তরবঙ্গের সঙ্গীতপ্রেমীদের জন্য এটি এক অসাধারণ সুযোগ। দীনবন্ধু মঞ্চে সোমবার সন্ধ্যা থেকে ধ্বনিত হবে দেশাত্মবোধক, আধ্যাত্মিক ও শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের সম্মিলিত সুর।

উপস্থিত থাকার আহ্বান

আয়োজক সংস্থা জানিয়েছে, “আপনাদের সাদর উপস্থিতি একান্তভাবে কাম্য।”
সকল সঙ্গীতানুরাগী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের এই বিশেষ সমবেত সঙ্গীত উপভোগ করার জন্য উন্মুক্ত আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে।

ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী সাংস্কৃতিক সংগঠন সর্বভারতীয় সঙ্গীত ও সংস্কৃতি পরিষদ প্রায় পাঁচ দশক ধরে দেশের শিল্প-ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার ব্রত নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে সংগঠনটির ৬ লক্ষেরও বেশি সক্রিয় ছাত্র এবং প্রায় ২ কোটি প্রাক্তন শিক্ষার্থী ভারত ও বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন। ২০২৬ সালে সংগঠনটি তার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করতে চলেছে।

প্রতিষ্ঠার গল্প: এক উদ্বেগ থেকেই শুরু

১৯৭৪ সালের শরতে কলকাতায় এক ছোট বৈঠক হয়। সেখানে কয়েকজন সচেতন নাগরিক একটি উদ্বেগের কথা বলেন—পাশ্চাত্য সংস্কৃতির দাপটে ভারতের ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলাগুলি যেন ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে। সেই বৈঠক থেকেই জন্ম নেয় এক বিপ্লবের বীজ।

১৯৭৫ সালটি ছিল সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়নের পালা। অবশেষে ১৯৭৬ সালের ২৩ জানুয়ারি কলকাতার জাদুমিত্র লেনের একটি ছোট ভাড়া বাড়ি থেকে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে ‘সর্বভারতীয় সঙ্গীত ও সংস্কৃতি পরিষদ’। নামটি দিয়েছিলেন প্রয়াত পণ্ডিত সুখেন্দু গোস্বামী। ‘সর্বভারতীয়’ শব্দটির মাধ্যমে তারা ভারতের সমস্ত অঞ্চলের শিল্পকলাকে একছাতার নিচে আনার লক্ষ্য স্থির করেন।

১৯৭৬ সালের মার্চে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সোসাইটি আইনে নিবন্ধিত হয় এই সংগঠন।

প্রাথমিক পথচলা ও সম্প্রসারণ

প্রথম দিকে সংগঠনটি কলকাতার রামরতন বসু রোডের একটি কেন্দ্র থেকে কাজ করত। ধীরে ধীরে তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলি অধিভুক্ত করতে শুরু করে। নিজস্ব পাঠ্যক্রম তৈরি করে, শিল্পের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সার্টিফিকেট, ডিপ্লোমা ও ডিগ্রি দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করে।

এক বড় সাফল্য ছিল—পশ্চিমবঙ্গের বোর্ডগুলির মধ্যে সর্বভারতীয় সঙ্গীত পরিষদই প্রথম, যার ডিপ্লোমা ও ডিগ্রি পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্বীকৃতি পায়।

আজকের বিশাল পরিধি

বর্তমানে সংগঠনটি ৩৪টিরও বেশি শিল্পমাধ্যম (শাস্ত্রীয় ও লোকসঙ্গীত, নৃত্য, চিত্রকলা, বাদ্যযন্ত্র ইত্যাদি) নিয়ে কাজ করছে। শুধু ভারত নয়, ১৫টি দেশে ছড়িয়ে আছে তাদের কেন্দ্র। এটি সম্পূর্ণ অ-অর্থায়িত (non-funded) সংস্থা, শুধুমাত্র ছাত্রদের ফি-এর ওপর ভর করেই চলে।

সম্প্রতি এক বার্ষিক সমাবর্তনে প্রায় ৫,০০০ ছাত্র-ছাত্রীকে সংবর্ধিত করা হয়েছে এবং ৫০০ শিল্পী মিলে ‘লাইভ স্কেচিং’-এর অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন, যা সংগঠনের শিল্পসেবার প্রতিশ্রুতিরই উদাহরণ।

ভবিষ্যৎ লক্ষ্য

২০২৬ সালে ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে উত্তরবঙ্গে (শিলিগুড়ির দীনবন্ধু মঞ্চ) ‘উত্তরবঙ্গ আঞ্চলিক সমাবর্তন’-এর আয়োজন করা হয়েছে। সংগঠনের বিশ্বাস, ভারতীয় ‘সংস্কৃতি লাইফস্টাইল’কে বিশ্বের সামনে তুলে ধরাই তাদের মূল প্রেরণা।

“আমরা চাই ভারতের ঐতিহ্য শুধু মিউজিয়ামে না যায়, বরং মানুষের শ্বাসে মিশে থাকে,”

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত, সংগঠনটির পক্ষ থেকে আগামী দিনে আরও আন্তর্জাতিক কর্মসূচির ঘোষণা আসতে পারে বলে জানা গেছে।

অনুষ্ঠানের বিবরণ

  • অনুষ্ঠান: শতকণ্ঠে সমবেত সঙ্গীত
  • আয়োজক: সর্বভারতীয় সঙ্গীত ও সংস্কৃতি পরিষদ
  • স্থান: দীনবন্ধু মঞ্চ, শিলিগুড়ি
  • তারিখ: ১৮ মে (সোমবার), ২০২৬
  • সময়: বিকেল ৫:৩০টা থেকে (সন্ধ্যা পর্যন্ত)

    For Event Promotion, Booking & Media Coverage:
  • India: +91 9382993780
  • USA: +1 (424) 266-2974
  • Email: californiatvglobal@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *