তবলা-শিল্পী উস্তাদ সাবির খানের জীবনাবসান
কলকাতা, ১৪ মে, ২০২৬ – ভারতীয় সঙ্গীতজগৎ আজ এক গুরুতর শোকের ছায়ায় নিমজ্জিত। প্রখ্যাত তবলা শিল্পী ও ফরুখাবাদ ঘরানার কিংবদন্তি উস্তাদ সাবির খান প্রয়াত হয়েছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর।
কীভাবে ঘটে মৃত্যু?
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে কলকাতার রাজারহাটের বাড়িতে হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁকে সল্টলেকের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
জন্ম ও সংগীত শিক্ষা
১৯৫৯ সালে উত্তরপ্রদেশের রামপুরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন উস্তাদ সাবির খান। ছোটবেলা থেকেই তবলায় হাতেখড়ি, পারিবারিক গুরুপরম্পরায় তিনি শিখেছেন ফরুখাবাদ ঘরানার বোল ও বাজানের সূক্ষ্মতা। পরবর্তীকালে তিনি নিজের স্বতন্ত্র শৈলী তৈরি করেন, যা আজও তবলা শিক্ষার্থীদের কাছে অনুপ্রেরণা।
কিংবদন্তিদের সঙ্গে যাত্রা
দীর্ঘ কয়েক দশকের সক্রিয় সঙ্গীত জীবনে তিনি ভারতীয় মার্গসঙ্গীতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে খ্যাত হন। তাঁর তবলায় সঙ্গত করেছেন –
- পণ্ডিত রবিশঙ্কর (সেতার)
- উস্তাদ আমজাদ আলি খান (সরোদ)
- উস্তাদ বিসমিল্লা খান (শেহনাই)
সহ আরও অসংখ্য কিংবদন্তি শিল্পী। প্রতিটি বাদনেই তিনি নিজের অনন্য শৈলীর ইতিহাস রচনা করে গিয়েছেন।
শিল্পীজগতে শোকের ছায়া
উস্তাদ সাবির খানের অকাল প্রয়াণে শোকস্তব্ধ সংগীত মহল। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রক, বিভিন্ন সঙ্গীত প্রতিষ্ঠান এবং অসংখ্য শিল্পী সোশ্যাল মিডিয়ায় শোকবার্তা জানিয়েছেন।
“তিনি শুধু তবলা বাদক ছিলেন না, ছিলেন এক শিক্ষক, এক পথপ্রদর্শক। তাঁর সুরেলা হাতের আঙ্গুলের স্পর্শ আজও বেজে উঠবে প্রতিটি রিয়াজে,” – এক শোকবার্তায় উল্লেখ করেছেন তাঁর এক প্রিয় শিষ্য।
শেষকৃত্যের ব্যবস্থা
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৫ মে) কলকাতার বৈষ্ণবঘাটা মহাশ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। শিল্পীকে শেষ সম্মান জানাতে সেখানে উপস্থিত থাকবেন তাঁর পরিবার, শিষ্য ও অনুরাগীরা।

